চলমান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪টি আসন ফাঁকা রেখে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় বিপাকে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফাঁকা আসন পূরণের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামের উপস্থিতিতে স্মারকলিপি জমা নেন ইবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব গোলাম মাহফুজ।
এতে বলা হয়, আমরা গুচ্ছ অধিভুক্ত ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রায় ৭/৮ মাসের অধিক সময় ধরে গুচ্ছের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রত্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মাসের অধিক সময় ধরে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে, এতে আমরা অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা অনেক হতাশায় দিন পার করছি। ৮০০-১০০০ আসন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও গুচ্ছে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করায় আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরুপায় হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি এবং রিট ফাইল আবেদন করেছি। আদালত রায় দিয়েছে ফাঁকা আসন দ্রুত পূরণ করার জন্য। এমতাবস্থায় গুচ্ছ সম্বনিত প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজ নিজ প্রক্রিয়ায় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের শূন্য আসন পূরণ করছে যা কিনা শিক্ষার্থীবান্ধব একটা কর্মসূচি। আমরা দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রকার ফাঁকা আসন পূরণের উদ্দ্যোগ দেখছি না। এজন্য আমরা আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমান ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি উত্থাপন করছি।
আরও পড়ুন:চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে উপদেষ্টাবৃন্দ ও মেয়রের পরিদর্শন
১. যত দ্রুত সম্ভব ফাঁকা আসনের তালিকা প্রকাশ করে গণবিজ্ঞপ্তির জন্য ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আহ্বান করা। ২. কোটায় ফাঁকা থাকা আসন নষ্ট না করে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।
বিজয় কুমার দে নামক ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অপেক্ষমান এক শিক্ষার্থী বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু আসন ফাঁকা রেখে বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আসনগুলো পূর্ণ করুক। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। এর আগে সম্মিলিতভাবে রিটও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী জানান, গণবিজ্ঞপ্তি দিলে আমরা আশাবাদী একটা আসন পাব। এদিকে আমাদের মতো যারা সেকেন্ড টাইমার তারা নিরুপায়। প্রশাসন আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।
একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। ৫৪টি আসন ফাঁকা রয়েছে। যদিও গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সম্ভবনা কম। বাকিটা প্রশাসন বুঝবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান জানান, একাডেমিক ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিন্ধান্তক্রমে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে পুনরায় সিন্ধান্ত নিবে কিনা প্রশাসন দেখবেন।